চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে জেলেবন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
বিস্তারিত দেখুন নিচের ভিডিও লিংকে পলি রানী প্রতিবেদনে…
চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধের দাবিতে রাজশাহীতে জেলেবন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ রোববার সকালে মহানগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে বরেন্দ্র অঞ্চলের স্থানীয় জেলেদের আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলেবন্ধনে রাজশাহীর গোকুল মথুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’র সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, রাজশাহীর গ্রীন কোয়ালিশন সবুজ (সংগতি) আহ্বায়ক মাহবুব সিদ্দিকী, বারসিক এর বরেন্দ্র অঞ্চলের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শহিদুল ইসলাম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন রাজশাহী জেলা সমন্বয়ক, ও জুলাই ৩৬ পরিষদ রাজশাহীর আহ্বায়ক মাহমুদ জামান কাদেরী, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলার সভাপতি উপেন রবিদাস, ছাত্র মৈত্রী রাজশাহী মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সম্রাট রায়হান, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জলাভূমির দেশি মাছ ও জলজ প্রাণবৈচিত্রের ওপর চায়না দুয়ারি জালের ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ছে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে এই জালসহ ক্ষতিকর বিদেশি মাছ ধরার সরঞ্জাম দ্রুত নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা। বাংলাদেশ মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এবং মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ। কিন্তু এরপরও কিছু বাণিজ্যিক মৎস্যজীবী এসব জাল ব্যবহার করে নদী, খাল-বিলের দেশি মাছ ও ঐতিহ্যবাহী জেলেদের জীবিকা সংকটে ফেলছে। তারা অভিযোগ করেন, এই জালের কারণে শুধু মাছই নয়, জলজ বাস্তুসংস্থানের অন্যান্য প্রাণী যেমন ব্যাঙ, কচ্ছপ, পাখি এবং জলজ উদ্ভিদও হুমকির মুখে পড়েছে। রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহারসহ চায়না দুয়ারি জালের ভয়াবহ প্রভাব জলজ পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জেলেরা বলেন, চায়না দুয়ারি বা কারেন্ট জাল বন্ধ না করলে দেশীয় মাছসহ জলজ প্রাণবৈচিত্র পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
জেলেবন্ধন শেষে, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
