পশ্চিমা আধিপত্য ঠেকাতে রাশিয়া-চীন-ইরান একজোট

শেয়ার করুন

বিস্তারিত দেখুন নিচের ভিডিও লিংকে এস,এম, আব্দুল্লাহর প্রতিবেদনে…

তেহরানে এক ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছে রাশিয়া, চীন ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠকে তারা পারমাণবিক চুক্তি, পশ্চিমাদের একতরফা চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বৈঠকে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি জাতিসংঘের মাধ্যমে ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে, তবে তা অবৈধ হবে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে গিয়ে সেই অধিকার হারিয়েছে।

তিনি বলেন, এই বৈঠক তিন দেশের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি পশ্চিমাদের চাপ প্রয়োগের কূটনীতি ইরানের সার্বভৌমত্বকে লঙ্ঘন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই বৈঠক ছিল আধিপত্যবাদ ও একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ার অংশ। তারা দাবি করে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরান নয়, গ্লোবাল সাউথের বহু দেশের ওপর অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে। তেহরান মনে করছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামোর ভিত্তি রচিত হয়েছে, যেখানে মস্কো, বেইজিং ও তেহরান ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে।

ইউরোপীয় ট্রোইকার সঙ্গে আলোচনা বৈঠকের পরপরই ইস্তাম্বুলে ইরান ও ইউরোপীয় ট্রোইকা (ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য) একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসবে। সেখানে স্ন্যাপব্যাক নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আলোচনায় অংশ নেবে, তবে তাদের শর্ত—সব নিষেধাজ্ঞার সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত প্রত্যাহার। চীন, রাশিয়া ও ইরানের এই বৈঠক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, তারা কৌশলগতভাবে একজোট হচ্ছে।

উদ্দেশ্য—পশ্চিমা একচেটিয়া নীতির বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা।