রাজশাহীর আমবাগানে পাখির বাসা ভাড়া দিচ্ছে সরকার

শেয়ার করুন

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও লিংকেঃ                         

 

 

আদালতের নির্দেশে রাজশাহীতে পাখির বাসার জন্য আমবাগান ভাড়া নিয়েছে সরকার। বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে শামুকখোল পাখি বসবাসের জন্য বাগান মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে বাঘার খোর্দ্দ বাউসা গ্রাম। মার্চ-এপ্রিল মাস এলেই কল কাকলিতে মুখোর হয়ে উঠে পুরো গ্রাম। গত পাঁচ থেকে ছয় বছর যাবৎ প্রজননের এই মৌসুমে বাঘার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আম বাগান গুলোতে শামুকখোল পাখির আবাস। শামুকখোল পাখি আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসের দিকে ডিম পাড়ে, পরে ছানা ফুটিয়ে বড় করে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে চলে যায় আগের ঠিকানায়।

গত বছরে প্রজনন মৌসুমের শুরুতেই বিপত্তির শুরু হয়। সেসময় আম বাগানের পাঁচ মালিক চেয়েছিলো বাসাগুলো ভেঙ্গে দিতে। তাদের দাবি, পাখি থাকার কারণে গাছে আম ধরছে না। ফলে প্রতি বছর অনেক লোকশান গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় পাখিপ্রেমী কিছু মানুষ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন বাগান মালিকরা। ১৫ দিনের মধ্যে বাসা না ছাড়লে পাখিদের বাসা ভেঙে দেয়ার ঘোষণাও দেন মালিকরা।

এ বিষয়ে তখন দীপ্ত টিভিসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয় আদালত। পরবর্তিতে জেলা প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে দেয়। এই কমিটির সদস্যরা পাখির বাসার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৮টি আমগাছ চিহ্নিত ও ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা গতবছরের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তারা টাকা পাবেন।

ক্ষতিপূরণ পাওয়া বাগানিরা হলেন, খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের মঞ্জুর রহমান, সানার উদ্দিন, সাহাদত হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও ফারুক আনোয়ার। আর বাগান মালিকরা বলছে, সরকার যে টাকা দিচ্ছে তা খুবই কম, এজন্য সরকার আমাদের দিকে সুদৃষ্টি দিলে আমরা উপকৃত হতাম বলে জানান বাগান মালিকরা।

পাখির গ্রাম হিসেবে পরিচিত হওয়ায় আমরা পাখি দেখতে আসছি বলে জানান দর্শনার্থীরা।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বন অধিদফতরের অনুন্নয়ন খাত থেকে পাঁচজন বাগান মালিককে আগামি কয়েক দিনের মধ্যে তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা প্রদান করা হবে বলে জানান বন্যপ্রানী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির। এ

ই এশীয় শামুকখোল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অঞ্চল থেকে আসে বাংলাদেশে। আর প্রজনন মৌসুমে বেছে নেয় রাজশাহীর এই আম বাগান। এর ফলে বাগান মালিকের যে ক্ষতি হচ্ছে তা পুষিয়ে দিচ্ছে সরকার।