বিস্তারিত দেখুন নিচের ভিডিও লিংকে সাইদুর রহমানের প্রতিবেদনে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আজ শনিবার মধ্যরাতে সামরিক স্থাপনাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রায় একইসঙ্গে সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বহনকারী নৌযানগুলোর ওপর ওয়াশিংটনের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলা করলো যুক্তরাষ্ট্র।

এই হামলার পরই ভেনিজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার।  এক বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, ভেনিজুয়েলার ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের অত্যন্ত গুরুতর ‘সামরিক আগ্রাসন’কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে প্রত্যাখ্যান, এবং নিন্দা জানাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় বড় আকারের হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়েছে। তবে মাদুরোকে কীভাবে ধরা হয়েছে বা তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসি’র মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিমান হামলার খবর সম্পর্কে অবগত আছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ এবং ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ নিয়ন্ত্রণ করতেই যুক্তরাষ্ট্র এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করে আসছে ভেনিজুয়েলা সরকার।

শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কার্লোটা সামরিক বিমানঘাঁটি এবং ফুয়ের্তে তিউনার প্রধান সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে। বেশ কিছু এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে এবং শহরের ওপর দিয়ে বিমান উড়ে যাওয়ার অসমর্থিত খবরও পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র অনেকদিন ধরেই বলে আসছে, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেশজুড়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক বহনকারী নৌযানগুলোর ওপর ওয়াশিংটনের সামরিক হামলা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো।

এদিকে, ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে রশিয়া-ইরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

অন্যদিকে, আক্রমণের পর এক্সে এক বিবৃতিতে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেন, ভেনেজুয়েলা এক ‘নতুন ভোর’ দেখেছে। স্বৈরশাসকের বিদায় হয়েছে। এখন সে তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হবে।