পুরোনো সেই খেলার কথা

🗓 Friday, 7 August 2020

👁️ ১৫ বার দেখা হয়েছে

🗓 Friday, 7 August 2020

👁️ ১৫ বার দেখা হয়েছে

পুজো মানেই পটকা। ধূপকাঠির নিচে পটকা রেখে দিয়ে অনেকক্ষণের অপেক্ষা। নাম দেওয়া হতো টাইমবোমা। নারকেল মালাইয়ের নিচে সেট করা হতো। যা ফাটার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে যেত মালাই অথবা ছিটকে কোথায় পড়ত খুঁজে পাওয়া যেত না। দেয়ালে দাগ দিয়ে টানা উইকেট, চটি দিয়ে ঘেরা বাউন্ডারি। ছক্কা মারলেই আউট। বিকেলজুড়ে শর্টপিচ ক্রিকেট। ক্রিকেট তো নয় আসলে হিরো হওয়ার আয়োজন। একটা বাউন্ডারি বা ডিরেক্ট হিট করতে পারলেই পাশের ছাদে মেয়েলি আড্ডায় কদর বেড়ে যেত।

তখন ফাইনাল পরীক্ষা হতো নভেম্বর মাসের শেষে। রেজাল্ট বের হতো ডিসেম্বরের ২৪ তারিখে। পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যাবেলায় চলত লুকোচুরি খেলা—আলো–আঁধারিতে ঝুল মেখে আলমারির পেছনে। ধাপ্পা দেওয়ার অপেক্ষা। চৌকির তলায়, আলনার পেছনে সিঁড়ির নিচে লুকিয়ে থাকা। একই ঘর আর সেখানে ঘুরে ঘুরে রোজ নতুন নতুন লুকানোর জায়গা আবিষ্কার। শীতকাল মানে পিকনিক, আর পিকনিক মানেই প্রান্তিক বা ডিভিসিতে দল বেঁধে গিয়ে রেঁধে খাওয়া। এত কিছু না হলেও পড়ার মধ্যেই আলুসেদ্ধ করে নুন–লঙ্কা দিয়ে মেখে খাওয়া। তারপরই অদ্ভুত এক খেলা ঝালঝাপটা। খেলা হয় সাত থেকে দশজন মিলে। একজন বাদে অন্যরা বড় গাছে ওঠে। একজন নিচে থাকে যাকে তাকে ঝালঝাপটা খাটতে হয়। তার উদ্দেশ্য হলো অন্য কোনো খেলোয়াড়কে গাছের নিচে থাকা অবস্থায় ছুঁয়ে দেওয়া। যাকে ছোঁয়া হলো সে মোড় হয়ে যায়। গাছের ডাল ধরে ঝুলে পড়লে মোড় করা যায় না। ঝাপটা খাটা দীর্ঘক্ষণ কাউকে ছুঁতে না পারলে শাস্তি হিসেবে দাঁতে খড় কাটতে হয় বা তার সঙ্গে পিঁপড়ের বিয়ে দেওয়া হয়। বড়দিনের ছুটিতে চলত ঘুড়ি ওড়ানো বা কেটে যাওয়া ঘুড়ির পেছনে ধাওয়া করতে করতে হাত–পা কেটে বাড়ি ফেরা। ছোড়দির সঙ্গে খেলতে যেতাম ধাপসা। ছেলেরা একদিকে মেয়েরা অন্যদিকে। প্রতিদল থেকে একজন করে অপর দলের দিকে ‘কিতকিত’ বা ‘চু-উউ’ বলতে বলতে ধেয়ে গিয়ে ছুঁয়ে আসা। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা ধরে ফেললে বা দম ফুরিয়ে গেলে আউট।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর